‘মাতাল প্রেমিকের হাতে প্রেমিকার মৃত্যু’

যে হাত দিয়ে সে পরম মতমায় আমার হাত ধরেছিলো সে হাত দিয়েই সে একদিন আমার গলা চেপে ধরেছিলো।

আমি কখনো ভাবি নি আমার সাথে এমন হবে। বাচ্চাকালের প্রথম সিরিয়াস সম্পর্ক, আবেগভরা ভালোবাসা। তাই প্রথমদিন যখন সে গায়ে হাত তুলেছিলো তেমন কিছু মনে করি নি। এতে কোন কিছু মনে করা উচিত সে শিক্ষাটাই আসলে ছিলো না। হাসি ঠাট্টায় ব্যাপারটা উড়িয়ে দিয়েছিলাম, যেন ব্যাপারটা আমারই দোষ ছিল।

সম্পর্কের প্রায় এক বছরের মাথায় তাকে অন্য আরেকজন নারীর সাথে প্রেমরত অবস্থায় ধরে ফেলি। প্রথম ভালোবাসার ইল্যুশন চুরচুর করে ভেঙ্গে পরে। সে অপমান হয়ত জীবনে কখনোই ভুলতে পারবো না। সে কিন্তু ঠিকই আছে, আমাকে কল দেয়, জোর করে দেখা করে। ধীরে ধীরে তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়ার চেষ্টা করি। ততদিনে তার প্রতি যত ভালোবাসা ছিলো সবই ঘৃণায় রূপ নিয়েছিলো। শুধু বিশ্বাসঘাতকতার অপমানটা মনে পরলে রাত বিরাতে দুই একজন সবচেয়ে কাছের বন্ধুকে কল দিয়ে কান্নাকাটি করি।

একদিন শুক্রবার সকালবেলা সে ঘরভর্তি মানুষের উপস্থিতিতে আমার গলা চেপে ধরে। সেই সকাল ১০টায়ও তার গা থেকে ভুরভুর করে এলকোহলের গন্ধ আসছিলো। প্রথমে মাতলামো ভেবে কিছু করি নি। হাত দুটো জোরে চেপে বসলে প্রথম কয়েক সেকেন্ড হাত ধরে টা টানাটানি করে বুঝে গেলাম লাভ নেই। নিঃশ্বাস বন্ধ করে জাস্ট ফ্যালফ্যাল করে তার দিকে তাকিয়ে রইলাম। আগে থেকে টেনে নেয়া বাতাস ফুরিয়ে যাওয়ার পর হঠাৎ দেখি চারপাশ কেমন যেন অন্ধকার হয়ে আসছে, যেন কেউ একজন আমার চোখে ইন্সটাগ্রামের ফিল্টার বসিয়ে দিয়েছে।

পুরোপুরি জ্ঞান হারানোর কয়েক সেকেন্ড আগে সে গলাটা ছেড়ে দেয়। আমি বিকট শব্দে কাশতে কাশতে বুঝতে পারি আর মিনিট আধেক হলেই আনা পরদিন পেপারে ছবি হয়ে যেত- ‘মাতাল প্রেমিকের হাতে প্রেমিকার মৃত্যু’।

গলা ব্যাথ্যায় প্রায় এক সপ্তাহ কথা বলতে পারি নি। সে তারপরেও এসেছে, তাকে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য পা চেপে কান্নাকাটি করেছে। আমি শুধু মুচকি হেসেছি। ততদিনে তার প্রতি ঘৃণাটা করুণায় পরিনত হয়েছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে সে এখনো আমার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে, বাসায় আম্মুর সাথে দেখা করতে আসে। আমি খুব হাসিখুশিভাবে কথা বলি তখন। আমার খুব মজা লাগে।

এ ঘটনাটা বলার কারন হচ্ছে- ডমেস্টিক ভায়োলেন্সের স্বীকার যে কেউ হতে পারে। আমি তখন কাউকে কিছু বলতে পারি নি লজ্জায় ‘কে কি বলবে’ এ ভেবে। কিন্তু এখন বুঝি যে আমার কিছু বলা উচিত ছিল, পুলিসের কাছে এই ছেলের নামে মামলা করা উচিত ছিল। এখন যদি এই ছেলে বিয়ে করে তার স্ত্রীর উপরও এভাবে অত্যাচার করে তবে তার দায় সব আমার হবে।

প্রেমিক হোক, স্বামী হোক, মা-বাবা হোক- কেউ যদি আপনার গায়ে হাত তোলে তবে সাথে সাথে তার প্রতিবাদ করুন। মনে রাখবেন সম্পর্ক যাই হোক না কেন, কারো অধিকার নেই অন্য কোন মানুষের গায়ে হাত তোলা।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s