মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে কিছু প্রশ্ন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,

আপনি বলেছেন ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের বিরোধীরা গ্রামে বাস করেননি। কারণ, তাঁরা এনজিও করে পয়সা কামায়। কিন্তু দায়িত্বটা নেয় না। এঁরা কোনো দিন গ্রামে বাস করেননি। গ্রামের সমাজব্যবস্থা সম্পর্কে তাঁদের বিন্দুমাত্র ধারণা নেই। শুধু একবার গেলাম, দেখলাম, আর মুখের কথা শুনলাম, তাতেই সবকিছু জানা হয় না।’ এটা কোন জরিপের ফলাফল অনুযায়ী বললেন তা জানতে পারি কি? আচ্ছা আপনি নিজে শেষ কবে সাধারনের মত গ্রামে বাস করেছেন? আপনি হয়ত খেয়াল করেন নি যে, একটা সমস্যার ব্যাপারে জানতে সেখানে স্বশরীরে উপস্থিত থাকতে হয় না। আইসিসের বর্বরতা জানার জন্য, রোহিঙ্গারা কিভাবে অত্যাচারিত হচ্ছে তা জানার জন্য, এসবের প্রতিবাদ করার জন্য সিরিয়ায়, মায়ানমারে যেতে হয় না।

আর বাল্যবিবাহ তো শুধু গ্রামে হয় না। আমি নিজেই আমার এলাকায় গত মাসে দুটা বাল্যবিবাহের খবর পেয়েছি, আমাদের বাসার অন্তত তিনজন বুয়ার মেয়েদের বাল্যবিবাহ রোধ করেছি, আমার আম্মু আর তার স্কুলের টিচাররা প্রায়ই অনেক কষ্টে তাদের ছাত্রীদের বাল্যবিবাহ ভেঙ্গে দিয়ে আসে। এগুলো তো গ্রামে ঘটেনি, দেশের রাজধানী ঢাকার মধ্যে হয়েছে। তো শুধুমাত্র গ্রামের কথা বললেন কেন আপনি? শহুরে মেয়েদের বাল্যবিবাহ কি গোনায় পরে না?

জনাবা প্রধানমন্ত্রী, আমেরিকার ‘টিন মম’ আর ‘১৬ এন্ড প্রেগনেন্ট’ টিভি শো দেখে বাংলাদেশের আইন করা যায় না। ওসব দেশে যখন কারো বাবা-মা এর নাম জিজ্ঞেস করে তখন বায়োলজিক্যাল স্পার্ম ডোনার আর ইউটেরাসের মালিকের নাম বললেই হয়ে যায়, কেউ কেয়ার করে না যে এদের মধ্যে কোন ধরনের ‘লিগ্যাল’ সম্পর্ক আছে বা ছিল কি না। ওইসব দেশে বাস্টার্ড কোন মারাত্মক গালি না। কিন্তু বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপট এমন না। এখনো এদেশে কোন ছেলেমেয়ে বন্ধু হিসেবে ঘুরলে সমাজ ছিঃ ছিঃ করে। এ সমাজে কোন ১২-১৫ বছরের মেয়ে বয়ফ্রেন্ডের সাথে শুয়ে ভুলে বাচ্চা কনসিভ করে জন্ম দিয়ে এখন বিয়ে করতে না পেরে বিপদে পরেছে- এমন ঘটনা ঘটে না। আর ঘটলেও যারা বাচ্চা জন্ম দেয় তারা বৈধ-অবৈধ নিয়ে মাথা ঘামায় না।

সাইড নোট- আপনি যে বললেন, ‘বাবার নাম কী, মায়ের নাম কী—এসব তথ্য না দিলে এ শিশুকে কেউই গ্রহণ করবে না। বিয়েও দেওয়া যাবে না। তাকে কেউ চাকরিও দেবে না।’ তবে অনাথ আশ্রমে বড় হয়েছে যারা বা রাস্তায় পিতামাতার পরিচয় ছাড়া যেসব বাচ্চারা বড় হয়েছে তাদের কি কেউ কখনো গ্রহন করে নি? তাদের কারোই কি পড়াশোনা হয় নি কখনো? তারা কখনো চাকরি করতে পারে নি?

আমাদের দেশে একটি মেয়ে বিয়ে ছাড়া ১২-১৫ বছর বয়সে গর্ভবতী হয় একটিমাত্র কারনে- তা হচ্ছে ধর্ষন। আপনি এই আইনটি করে ধর্ষিতার সাথে ধর্ষকের বিয়ের বৈধতা দিয়ে দিলেন। এমনিতেই সালিশের মাধ্যমে এই নোংরা ব্যাপারটি করা হত, এবার সেটা আইনি ব্যাকিং পেয়ে গেল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে স্পষ্ট করে বলছি, এই আইনের মাধ্যমে আপনি আসলে একজন ধর্ষিতাকে একটা অভিশপ্ত জীবন যাপনের বৈধতা দিয়ে দিলেন।

ইতি,
একজন গ্রামে বসবাস না করা, দায়দায়িত্বহীন ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন’ এর বিশেষ প্রেক্ষাপট বিরোধী

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s