দ্যা মিথ অফ উগ্র নারীবাদীতা

সত্যি কথা হচ্ছে, আমাদের সমাজের প্রেক্ষাপটে উগ্র ফেমিনিজম বা ফেমিনাজি বলতে কিছু নাই। প্রথমত, ফেমিনাজি টার্মটা প্রচন্ড নোংরা এবং অসম্মানজনক। দ্বিতীয়ত, এই টার্মটার উৎপত্তি আমেরিকান ফোর্থ ওয়েভ ফেমিনিজমের বিপক্ষে থাকা মেনিনিস্ট বা পুরুষবাদীদের হাতে। এদের মতে আমেরিকায় নারীপুরুষ সমান অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে (যদিও তাদের নেক্সট প্রেসিডেন্ট একজন প্রমানিত নারী নির্যাতক)। সেখানে ফেমিনিজমের কোন দরকার নেই আর, যারা এখনো এ নিয়ে চিল্লায় তারা হচ্ছে পুরুষ ঘৃণা করা উগ্র এটেনশন সিকার।

কোন কিছুর উগ্রতা নিয়ে সমালোচনা করার আগে সে জিনিসটা প্রতিষ্ঠিত হতে দিতে হয়। আমেরিকান মেনেনিস্টরা ফেমিনাজিদের নিয়ে চিল্লাপাল্লা করতে পারে কারন ওদের দেশের নারীবাদ অলরেডি তিনটা স্তর পার করে এসেছে। আমরা এখনো প্রথম স্তরই স্ট্যাবলিশ করতে পারি নি, হেক এ নিয়ে কথা বলা বেশিরভাগই জানে না নারীবাদ জিনিসটা আসলে কি খায় না মাথায় দেয়।

আমাদের সমাজে নারী-পুরুষ সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা হওয়া তো দূরের কথা সরকারীভাবে আইন পাশ করে ১৮ বছরের নিচে বাচ্চা মেয়েদের বিয়ের অনুমতি দিয়ে দেয়া হয়েছে। উচ্চমধ্যবিত্ত আর মধ্যবিত্ত শ্রেনীতে আপাতত দৃষ্টিতে নারীদের অবস্থান খুব ভালো মনে হলেও ভেতরের রূপ ভয়াবহ। ঢাকা শহরের তথাকথিত শিক্ষিত পরিবারেও মেয়েদের অকথ্য নির্যাতন করা হয়। আমি খুব ইজিলি পার্সোনালি চিনি এমন দশজন শিক্ষিত, প্রতিষ্ঠিত, স্মার্ট মেয়ের নাম বলতে পারবো যারা শ্বশুরবাড়িতে ভয়ংকরভাবে নির্যাতিত হয়েছে এবং হচ্ছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ এই নরক থেকে বের হয়ে আসতে পারলেও অনেকেই সামাজিক চাপে মুখ বুজে সব সহ্য করছে। আর কনে দেখার নামে শহুরে বা গ্রামের প্রতিটা মেয়েকে যে হিউমিলিয়েটিং সিচুয়েশনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় তা আর নাই বললাম।

নিম্নবিত্ত নারীরাও যে খুব ভালো আছে তা কিন্তু না। আমাদের বাসায় কিছুদিন আগে যে খালা কাজ করতেন তার বেকার স্বামী তার কাজের টাকায় মদ খেয়ে পতিতা নিয়ে ঘরে এসে তাকে মারধোর করতেন। বর্তমানে যে খালা আছে তার মেয়ের স্বামী কিছুদিন আগেই মেয়ের হাত পুড়িয়ে দিয়েছে কারন সে তার পরকীয়া নিয়ে চিল্লাপাল্লা করেছিলো। এগুলো জাস্ট আমার ঢাকা শহরের ক্ষুদ্র দুনিয়ার কয়েকটি এক্সাম্পল। পুরো দেশজুড়ে প্রতিদিন এরকম হাজার হাজার ঘটনা ঘটছে যার ১%ও আমরা জানি না।

আমাদের দেশে এখনো ধর্ষিতাকে সালিশ করে শাস্তি দেয়া হয়, ধর্ষকের সাথে বিয়ে দেয়া হয়, মেয়ে বাচ্চা জন্ম দেয়ায় মা-সন্তান দুজনকেই ছুঁড়ে ফেলার মত ঘটনা ঘটে। এরকম উগ্র পুরুষতান্ত্রিক সমাজে ফেমিনাজি বা ‘কিটিবাদী’ নিয়ে সমালোচনা করে টাইম ওয়েস্ট করা মানায় না। এতে শুধু একগাদা উঠতি মেনেনিস্টদের লাইকই পাওয়া যাবে, কাজের কাজ কিছুই হবে না। উলটো যারা নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে তাদের শ্রমকে অপমান করে হবে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s